দেশ-বিদেশ

কিশোরগঞ্জে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী হাঁস ও মুরগি প্রতীক পেয়েছেন

নরসুন্দা ডটকম   জানুয়ারি ২১, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে দুইটি আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী রয়ে গেছেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেও তারা তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেননি। প্রতীক বরাদ্দের দিন তারা হাঁস ও মুরগি প্রতীক পেয়েছেন। ফলে কিশোরগঞ্জ-১ ও কিশোরগঞ্জ-৫বিএনপির এ দুই আসন এখন জেলাজুড়ে আলোচনায়।

বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে এ দুই আসনে দুই বিদ্রোহী, স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে অনানুষ্ঠানিক প্রচার ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম খান চুন্নু। তিনি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে তিনি নির্বাচন করেছিলেন। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী পেশায় তিনি আইন পরামর্শক ও ব্যবসায়ী। নির্বাচনে তিনি মুরগি প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মাজহারুল ইসলাম।

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেছেন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। এছাড়াও তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি। তিনি হাঁস প্রতীক বরাদ্দ পেযেছেন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমে তিনি বিএনপির মনোনয়ন পান। পরে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে মজিবুর রহমান মঞ্জুকে মনোনয়ন দেয়া হয়। ওই নির্বাচনে মঞ্জু এমপি নির্বাচিত হন। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করেন শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। পেশায় ব্যবসায়ী এই নেতা তিন দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত রয়েছেন। এবারের নির্বাচনেও প্রাথমিকভাবে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। পরে তার মনোনয়ন পরিবর্তন করে বিএনপি চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয় বাংলাদেশ জাতীয় দলের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদাকে। এহসানুল হুদা তার বাবার গড়া দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পান।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানায়, জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। নির্বাচন কমিশনে আপিল করে তারা তাদের মনোনয়ন ফিরে পান। নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর দলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে এই দুই প্রার্থী ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের সাথে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়। তবে দুইজনই নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। বুধবার প্রতীক বরাদ্দের পর পুরোদমে প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন তারা। এই দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার কারণে এরই মধ্যে নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। যদিও দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

বিএনপির একাংশের দাবি, রেজাউল করিম খান চুন্নু ও শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল দলের জন্য যোগ্য প্রার্থী ছিল। এখন তারা ভোটের ফলাফলের মাধ্যমেই নিজেদের অবস্থানের যৌক্তিকতা প্রমাণ করবেন।

About the author

নরসুন্দা ডটকম

Leave a Comment